একজন রোকেয়া সুলতানা দেশী পন্য নিয়ে বিশ্ব জয়ের স্বপ্ন-

 একজন রোকেয়া সুলতানা দেশী পন্য নিয়ে বিশ্ব জয়ের স্বপ্ন-

সিলেট বিভাগ, সুনামগঞ্জ জেলা, দিরাই থানা, পেরুয়া গ্রামে মেয়ে রোকেয়া সুলতানা। বাবা নূর মিয়া। অজপাড়া গ্রাম, পাহাড়ি এলাকা উচু উচু বাড়ি, জমি গুলো অনেক নীচু, বর্ষা হলে বাড়ির চার দিকে অথৈই পানি, এক পাড়া থেকে অন্য পাড়ায় যেতে নৌকা ছাড়া গতি নেই। তার বাবা ৩৫ বছর ব্যবসা করেন শাড়ি কাপড় নিয়ে । সেই ব্যবসা করে আজ তার বাবা একজন সফল ব্যবসায়ী। এই ব্যবসা করে ঐ অজপাড়া গ্রাম থেকে ছেলে মেয়ে কে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে সবাই কে নিয়ে আজ রাজধানী ঢাকা শহরে বসবাস করেন। চার বোন দুই ভাই এর মধ্যে তিনি সবার বড় মেয়ে, ছোট বেলা থেকেই ব্যবসা করার স্বপ্ন দেখতেন। তবে হাতে খড়ি বাবার হাত ধরে তার ব্যবসা শিখা।তার স্বপ্ন পূরণের জন্য গড়ে তুলেছেন অনলাইন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান “সুলতানা মনিপুরী শপ”

কিভাবে আপনার উদ্যোগটির যাত্রা শুরু?

আমার উদ্দ্যােক্তা হওয়ার জন্য আমার পরিবারের সবাই সাপোর্ট করছেন। আমি শুরু করবো বলে সিদ্ধান্ত নিলাম তখন আমার পরিবারের সবাই কে আমার বাসায় এনে আলোচনা করছি, সবাই কে জিজ্ঞেস করেছি আমি অনলাইন ব্যবসা করতে চাই সবাই কি মতামত চাই? সবাই মিলে অনুমতি দিলেন। আমি আমার বাবা এবং মা কে বললাম যে বাবা, মা, আমি ব্যবসা করবো। তখন আমার বাবা বলেন তুমি কি নিয়ে ব্যবসা করতে চাও? আমি মনিপুরী শাড়ি, থ্রি পিস বিছানার চাদর নিয়ে শুরু করতে চাই।বাবা বলেন তোমার শাড়ি কে কিনবে কোথায় বিক্রি করবে? আমি বললাম বাবা অনলাইনে বিক্রি করবো। তখন বাবা বলেন আমি ব্যবসা বুঝি কিন্তু অনলাইন বুঝি না। তখন আমি বুঝিয়ে বললাম। বললেন ঠিক আছে তবে মনে রাখতে হবে সাফল্য, সুখ বা আনন্দের চাবিকাঠি নয়, তবে সুখ বা আনন্দ সাফল্যের উপাদান। সুতরাং যে কাজ ভালো লাগে সেটাতে লেগে থাকতে হবে। বাঁধা থাকবে জীবনে কিন্তু সাফল্য বাঁধার মধ্যে দিয়ে আসবে। এই কথা গুলো মনে রাখবে। আমি বললাম বাবা দোয়া করবেন আমি যেন আমার উদ্দেশ্য সফল করতে পারি।

এখন আমার পরিবারে আমার স্বামী ও ব্যবসা করেন, কিন্তু মেয়েদের ব্যবসা করার নিয়ম নিতি নেই বলে আমি থেমে ছিলাম। এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ ইন্টারনেট। আবার আসলো ই-কমার্স বিজনেস। হঠাৎ একদিন খোঁজ পেলাম ( উইমেন এন্ড ই-কমার্স ফোরাম উই) এর অনলাইনে। ২০২০ সালে জুলাই মাসের ১ তারিখ আমি উইতে জয়েন করি।যেখানে শুধু দেশি পন্যের প্রচারের জন্য রাজিব স্যার দিন রাত চেষ্টা করে যাচ্ছেন। সেই উই থেকে আমার পথ চলা শুরু । একজন উদ্দ্যােক্তা হতে হলে কি কি করতে হবে উই থেকে শিখি। রাজিব স্যার এবং নাসিমা আক্তার নিশা ম্যাম উই এর মত এত সুন্দর প্ল্যাটফর্ম তৈরি না করলে হয়তো এমন সুযোগ পেতাম না। তার জন্য স্যার এবং ম্যামের কাছে সবসময় কৃতজ্ঞ। তার জন্য আজ হাজার নারী দেশি পন্য নিয়ে নিজের উদ্দ্যােগ নেওয়ার সাহস করেছেন সফলতাও পাচ্ছেন। বর্তমানে আমি নারী উদ্যোক্তা সংগঠনটির সংগেও যুক্ত আছি। যেখানে প্রত্যেকেই দেশীয় পন্য নিয়ে কাজ করেন।

আপনি কি পন্য নিয়ে কাজ করছেন?

আমি মূলত মনিপুরী শাড়ি, থ্রি পিস, বিছানার চাদর ও শ্রীমঙ্গলের চা পাতা । আমি সরাসরি সিলেট থেকে আমার পন্য সংগ্ৰহ করে থাকি।

আপনার উদ্যোগটি নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আমি আমার এই দেশি পন্য গুলো বাংলাদেশ ও দেশের বাইরে ছড়িয়ে দিতে চাই এবং আমার এই পন্যগুলোকে নিয়ে একটি শোরুম দিতে চাই। ইনশাআল্লাহ আমি সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।

সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন টাঙ্গাইল জেলার প্রতিনিধি রোয়েনা রহমান।

RedLive

Related post

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।