খাদিজা আক্তার দীপা কেন উদ্যোক্তা পথ বেছে নিলেন!

 খাদিজা আক্তার দীপা কেন উদ্যোক্তা পথ বেছে নিলেন!

গত এক দশক ধরে ব্যবসায় তরুণ তরুণীদের পদচারণা ইতিবাচক হারে বেড়ে চলছে । এর প্রধান কারণ- তরুণরা বর্তমানে নিজ নিজ চিন্তা-ভাবনাগুলোকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।

আরেকটি অন্যতম প্রধান কারণ হলো- ইন্টারনেটের প্রসার। ইন্টারনেটের প্রসারের কারণে মানুষ খুব সহজেই তাদের চিন্তা-ভাবনাগুলোকে পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিতে পারছেন। এর এজন্যই বর্তমানে অনেক তরুণ উদ্যোক্তা তৈরী হচ্ছে।

তারা বার বার দেখিয়ে দিচ্ছেন- নিজেদের আইডিয়াগুলোকে সঠিক সময়ে, সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে, সফলতা পাওয়া কঠিন কিছু নয় ।

অন্য ভাবে বলা যায়, তরুণদের জন্যে সময়ের সদ্ব্যব্যবহারেরও একটা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তারা স্থাপন করে যাচ্ছেন। এছাড়া তারা প্রমাণ করেছেন, উদ্যোক্তা হতে গেলে বয়স কোন বিষয় নয়। শুধু সঠিক পরিকল্পনা, অভিনব আইডিয়া আর দৃঢ় মনোভাব প্রয়োজন।

কুমিল্লার মেয়ে খাদিজা আক্তার দীপা। পড়াশোনা করছেন প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স-মাস্টার্স)। পরিবারে স্বামী এবং এক মেয়ে এক ছেলে নিয়ে সংসার। বর্তমানে স্বামীর কাজের সূত্রে যশোর বসবাস করছেন। পড়াশোনা শেষ করে কয়েক বার বিসিএস পরীক্ষা দিলেও চাকরি জুটেনি।তাই তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন নিজে কিছু একটা করতে হবে।তবে তার বিশেষ কিছু গুন রয়েছে তিনি বেশ মজার রান্না করতে পারে।তার এই প্রতিভা কে কাজে লাগিয়ে তিনি আজ একজন সফল নারী উদ্যোক্তা।তার উদ্যোগের নাম Authentic By Sanjida Bithi

সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন টাঙ্গাইল জেলার প্রতিনিধি রোয়েনা রহমান।

কিভাবে আপনার উদ্যোক্তা পথ যাত্রা শুরু? এবং এর পিছনের কারন কি?

বেশ কয়েক বার বিসিএস পরীক্ষা দিয়েছি।ভাইভাতে সিলেক্ট হয়েছি।কিন্তু স্বামীর কঠিন অসুখের জন্য নিজের চাকরি করা হয়ে উঠে নি। স্বামীর চাকরি সূত্রে এখন যশোর থাকি। এখানেই উদ্যোক্তা হওয়ার শুরু।

পড়াশোনার বাইরে তেমন কোন বিষয়ে পারদর্শীতা নেই।কিন্তু নিত্য নতুন আইটেম রান্না করতে ভালো লাগে। নতুন কিছু রান্না করে মানুষকে খাওয়াতে ভালো লাগে।এই জন্য লোকের অনেক প্রশংসা পেয়েছি। তাই এই রান্নাকে কেন্দ্র করেই আমার উদ্যোক্তা জীবন শুরু।

আপনি কি কি পণ্য নিয়ে কাজ করছেন?

পর্দা বিরিয়ানি,সব ধরনের হোম মেড খাবার, সব ধরনের হোম মেড পিঠা পুলি, আচার, বিভিন্ন ধরনের হালুয়া এবং রুটি পরোটা, সব ধরনের ফাস্ট ফুড আইটেম নিয়ে কাজ করি।

একজন উদ্যোক্তা হিসেবে কখনও কি কোন বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়েছে কি?

একজন উদ্যোক্তার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হচ্ছে পরিবার।পরিবারের সাপোর্ট পেলে মানুষ অনেক অসাধ্য সাধন করতে পারে। কিন্তু আমি তার কিছুই পাই নি।বরং উল্টোটাই পেয়েছি স্বামী প্রথম শ্রেণির সরকারি চাকরি করেন।তিনি আমার এই পেশাকে একদম সাপোর্ট করেন না।সব সময় বাঁধা হয়ে সামনে এসেছেন।সব বাঁধা উপেক্ষা করে আমি নিজের আত্নবিশ্বাস এবং মনোবল নিয়ে নিজের মতো করে এগিয়ে যাচ্ছি।স্বামী, সন্তান, সংসার সামলে যতটুকু পারছি করে যাচ্ছি। আল্লাহ রহমতে অনেকটা পথ এগিয়ে গেছি।এখন আমাকে সবাই পর্দা বিরিয়ানি আপু অথবা পিঠা রানী হিসেবেই বেশি চিনে। যশোর একটা ছোট শহর। এখানে হোম মেড খাবারের চাহিদা খুব কম। তবুও ভালো সাড়া পাচ্ছি। কেউ হোম মেড খাবারের খোঁজ করলে আমাকে সবার আগে খোঁজে। এটাই জীবনের বড় পাওয়া।

আপনার উদ্যোগটি নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, এই প্রজেক্ট টাকে অনেক বড় করা। যশোর বাইরে থেকে অনেক অর্ডার আসে।কিছু কিছু খাবার পচনশীল দ্রব্য। তাই ডেলিভারি দিতে পারি না। আমার ইচ্ছা যশোরের বাহিরে সব জেলায় আমার প্রজেক্ট পৌঁছে দেওয়া। হোম মেড খাবার নিয়ে অনেক দূর এগিয়ে যাওয়া।

RedLive

Related post

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।