তরুণ মেধাবী সংগীত পরিচালক আভরাল সাহির এর জীবনধারা

 তরুণ মেধাবী সংগীত পরিচালক আভরাল সাহির এর জীবনধারা

প্রতিবেদক: শারমিন মনিকা

সংগীতের প্রতি তীব্র ভালবাসার জায়গা থেকেই বর্তমান সময়ে তরুণ ও মেধাবী সংগীত পরিচালক হিসেবে সুপরিচিতি লাভ করেন আভরাল সাহির।তরুণ এই সংগীত পরিচালকের জন্ম ১৯৮৯ সালের ২৬শে জুন বন্দরনগরী চট্টগ্রাম শহরের আন্দরকিল্লায়।আভরাল সাহিরের লিরিক্যাল ভিডিও থেকে শুরু করে মিউজিক ভিডিওগুলো কোন প্রমোশন ছাড়াই মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউস অর্জন করে, সাথে ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা লাভ করে।আভরাল সাহির মনে করেন,ভালো গানের জন্য কোনো ধরনের প্রমোশনের প্রয়োজন পড়ে না।সংগীত জগতে তরুণ এই শিল্পীর পথচলা কেমন ছিল, সেই বিষয়েই কথা হয়েছিল রেড লাইভের এসিস্ট্যান্ট কমিনিকেশন অফিসার শারমিন মনিকার সাথে।

প্রতিবেদক: সংগীতে আপনার পথযাত্রা কেমন ছিল,যদি শুরু থেকে গল্পটা বলতেন?

আভরাল সাহির: ২০০৬-‘০৭ সালে টুকটাক সফটওয়্যার নিয়ে একটু ঘাঁটাঘাঁটি করতাম।২০১১সালে মুম্বাইয়ে কয়েকজন মিউজিসিয়ানের সাথে,ভাল ভাল সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার,কয়েকজন কম্পোজারসের সাথে পরিচয় হয়।স্পেশালি সন্দীপ দা।মুম্বাইতে ওনার স্টুডিও,উনি সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার।উনার সাথে ৩-৪ বছর এসিস্ট করি,সাউন্ডটা উনার কাছে থেকেই ভালোভাবে শিখেছিলাম।উনি বেশি রিদ্মিক,ডান্সের সং,বলিউডের আইটেম সং,মিক্সিং,মাস্টারিং এই টাইপের কাজ করতেন।

প্রতিবেদক: গানের ক্ষেত্রে আপনি কাকে আইডল মনে করতেন?

আভরাল সাহির: হাবিব-ফুয়াদ ভাই সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার ও কম্পোজার হিসেবে আমার ফার্স্ট চয়েস।উনাদের গান আমার খুব ভালো লাগতো।স্পেশালি হাবিব ভাইয়ের কৃষ্ণ এ্যালবাম শোনার পর থেকে গানের প্রতি ভালোলাগাটা দ্বিগুণ হারে বেড়ে যায়।কৃষ্ণ এ্যালবামের গানগুলো এত চেঞ্জিং,এত আপডেটেড ছিল যা আমাকে গানের ক্ষেত্রে নতুনত্ব আনতে বেশ অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল।

প্রতিবেদক: আপনার প্রথম এ্যালবামে কাদের নিয়ে কাজ করেছিলেন?

আভরাল সাহির: মুম্বাই থেকে সংগীতে তালিম নেয়ার পর ২০১৪ এর শেষের দিকে দেশে ফিরে আসি।২০১৫ সালে আমার ফার্স্ট মিক্সড এ্যালবাম ‘সাহির মিক্স’, যেখানে কাজ করেছেন-বেলাল খান,ইলিয়াস হোসাইন,জনি খন্দকার,অরিন,পাভেল,রফিকুল আলমসহ জনপ্রিয় আর্টিস্ট। এরপর ব্যাক টু ব্যাক ভালো কাজের অফার পাই।

প্রতিবেদক: প্রথম গান কখন করা হয় এবং সেটার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

আভরাল সাহির: আমজাদ আংকেল,সম্পর্কে আমার মেজ ফুপির দেবর, যার কথা না বললেই না।উনার কাছে ভাল ভাল সাউন্ড ছিল।একদিন উনার সামনে হাবিবের ‘দিন গেলো’ গানটি খালি গলায় করছিলাম।আংকেল প্রশংসা করলেন,”তোমার গানের ভয়েস তো মাশাল্লাহ ভালোই”।তখন থেকেই মাথায় পোকা ঢুকে গেল যে আমি মূলত সিংগার হবো।২০০৮ এর দিকে ফার্স্ট স্টেজ প্রোগ্রাম করি,’,তোমারো চোখের আঙিনায়’।শ্রোতারা বেশ প্রশংসাও করলো।

প্রতিবেদক: আপনার লাইফের টার্নিং মোড় কখন ছিল?

আভরাল সাহির: ২০১৭ সালে এর দিকে আমার টার্নিং পয়েন্ট ছিল ওয়ান এন্ড অনলি “পাঞ্জাবিওয়ালা” খ্যাত শিরিন আপু।তিনি আমার জন্য আসলে অনেক বড় একজন কণ্ঠশিল্পী।আমার সাথে শিরিন আপুর করা তৃতীয় সলো এ্যালবাম “গানওয়ালী”, এখানকার ৩টি গানের লিরিক্স,মিউজিক,টিউন সব আমারই করা,গানগুলো বেশ দর্শকপ্রিয়তা লাভ করে।হাবিব-ফুয়াদ ভাইয়ের মত দুজন গুণী মিউজিসিয়ানের সাথে কাজ করার পর শিরিন আপুর আমার সাথে কাজ করা,সেটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া ছিল।

প্রতিবেদক: আপনার গানের লিরিক বেশ সুন্দর হয়, এই লিরিক লেখার বিষয়টি কিভাবে আপনার মধ্যে গড়ে উঠলো?

আভরাল সাহির: ছোটো বেলায়,পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে গল্প-উপন্যাস পড়তাম।বিভিন্ন গান শুনতাম।কিছু কিছু গানের কথা খুবই স্বাভাবিক লাগতো।ভাবতাম,আমি হলে এই জায়গায় কি লিখতাম,দুষ্টুমি করে ভাবলাম,লিখে ফেলি।রোমান্টিক গানের ক্ষেত্রে আমি কল্পনা করি,আমি একজনকে অনেক ভালোবাসি,আমার ভালোবাসার ফিলিংসটা শেয়ার করতে চাই,তাকে নিয়ে আমি কি ভাবি,সে আমাকে নিয়ে কি ভাবে,দুটো মানুষের মনের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করি।আর তখনই খাতা কলম নিয়ে বসে গানের কথাগুলো সাজিয়ে ফেলি।

প্রতিবেদক: নাটকে আপনার প্রথম কাজ কোন গানের মাধ্যমে শুরু হয়?

আভরাল সাহির: আমার প্রথম নাটকে কাজ শুরু হয় মহিদুল মহিমের পরিচালনায় আফরান নিশো ও মেহজাবিন অভিনীত ‘ভাই প্রচুর দাওয়াত খায়’ নাটকে ‘কিছু ভুল’।গানটি অল্প সময়ে দর্শকপ্রিয়তা লাভ করে।

প্রতিবেদক: আপনার বর্তমানে কি নিয়ে কাজ করছেন?

আভরাল সাহির: সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত সঞ্জয় সমাদ্দার পরিচালিত,তানজিন তিশার প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘শিকল’ এ ‘শিকল’নামে আমার একটা গান আছে।ওয়েব সিরিজটি Robi Binge App এ সবাই দেখতে পাবে।মহিদুল মহিমের পরিচালনায় ‘ক্যান্ডি ক্রাশ’ নাটকে আমার আর কোনাল আপুর গাওয়া ‘তোমারই অভাবে’ গানটিও বেশ দর্শকপ্রিয়তা লাভ করেছে।এছাড়া মহিদুল মহিমের ‘শিল্পী’ নাটকে আমারই সংগীত পরিচালনায় পাভেলের দ্বৈত কন্ঠে গাওয়া ‘বুক চিনচিন করে হায়’ গানটি ফেসবুক,ইউটিউব,ইন্সটাগ্রাম,টিকটকে সবার মাঝে তুমুল সাড়া ফেলেছে।আমার ছোট ভাই আজাদ রাহির নতুন গান ‘একজন ছিলো’ লিরিক্যাল ভিডিও রিলিজ হলো,সেটা সবার কাছে ভালো লেগেছে,এর আগে তার ‘অন্ধকার’ গানটিও ইউটিউবে ৭মিলিয়ন ভিউস অতিক্রম করে।

প্রতিবেদক: সামনে দর্শকদের জন্য আর কি কি চমক রেখেছেন?

আভরাল সাহির: আমি যেহেতু চট্টগ্রামের ছেলে,তাই চট্টগ্রামকে বেস করে চাঁটগাইয়া Folk Mas hup করেছি।গানের নাম ‘কি জ্বালা দিয়া গেলা মোরে’।গানটিতে কন্ঠ দিয়েছেন আমি আর পান্না চেমন আপু।গানটি আর কিছুদিনের মাঝেই আমার অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল Avraal Sahir এ রিলিজ পাবে।ভ্যালেন্টাইনে আমার অনেক কাজ আসছে,যার মধ্যে একটা হচ্ছে আমারই মিউজিক ভিডিও,গানের নাম “বাড়াবাড়ি ” গানটিতে একজন নতুন ফিমেল সিংগার থাকবে।তাছাড়াও আমার আপকামিং তিনটি প্রজেক্ট আসছে যার জন্য আমি দু-তিন বছর ধরে কাজ করেছি।একটি গান আমি সহ পাঁচজন সেলেব্রিটি থাকছে যাদের একনামে সারা দেশ চিনে।আমি এই কাজ নিয়ে খুব আশাবাদী।বলিউডের দুটি প্রজেক্টে কাজ করছি যার মধ্যে একটি শর্টফিল্মে।

প্রতিবেদক: কণ্ঠশিল্পী,মিউজিক ডিরেক্টর,কম্পোজার,লিরিসিস্ট হিসেবে দর্শকপ্রিয়তা লাভের পরও কোন পরিচয়ে আপনি নিজেকে দেখতে চান?

আভরাল সাহির: একজন মিউজিক কম্পোজার যদি একজন কণ্ঠশিল্পী হিসেবে আআত্মপ্রকাশ না করে তাহলে সফলতা আসতে দেরি হয়ে যায় বলে আমি মনে করি।বাংলাদেশে পপুলার ভিডিও ডিরেক্টর আছে,যারা এক্টিং করছে তাদের মানুষ ফোকাসে নিচ্ছে।অথচ সব থেকে গুরুত্ব বহন যারা মিউজিক তৈরি করছেন।আমি কতটা ভালো গাই,সেটা আমি নিজেও জানিনা।মিউজিশিয়ান,মিউজিক প্রডিউসার,কম্পোসার হিসেবে নিজের আত্মপ্রকাশ ঘটাতে চাই।গান গাওয়া মূলত শখের বশে করা।

প্রতিবেদক: আপনার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে জানতে চাই ,

আভরাল সাহির: আমার সহধর্মিণী পাশে না থাকলে অনেক কিছুই সম্ভব হতোনা।সে সবসময় আমার পাশে আছে,আমাকে সর্বক্ষণ মেন্টালি সাপোর্ট দিয়ে যায়।সে পাশে আছে বলেই আমি আমার গানের সব কাজ করে যেতে পারছি।

প্রতিবেদক: গান নিয়ে ভবিষ্যতে নিজেকে কোন জায়গায় দেখতে চান?

আভরাল সাহির: মিউজিক আসলে শৌখিন ব্যাপার।মিউজিক আমার কাছে নেশার মতন।মিউজিক ছাড়া যেন আমি কিছুই না,সবসময় মিউজিক নিয়ে থাকতে চাই।আর গানের তো আলাদা কোনো বয়স নেই।সবার কথা মাথায় রেখে মিউজিক তৈরি করি।বাকিটা হচ্ছে অডিয়েন্স কিভাবে নিচ্ছে।সবসময় চেষ্টা করে যাবো অডিয়েন্সকে ভাল ভাল মিউজিক উপহার দেয়ার।কারণ অডিয়েন্সের ভালোবাসা আর সাপোর্টে আজকের আভরাল সাহির হয়ে ওঠতে পেরেছি।

RedLive

Related post