বিষন্ততা দূর করতে ইয়োগা কতটা কার্যকরী

 বিষন্ততা দূর করতে ইয়োগা কতটা কার্যকরী

বিষন্ততা জীবনের একটা সময় খুব বেশি করে ঘিরে ধরে,তখন সেই বিষন্ততা থেকে বের হওয়া খুব জটিল হয়ে যায়।বিষন্ততা মানুষকে একসময় গ্রাস করে নেয়।মানুষের দুঃখ, কষ্ট, ভালো লাগা, মন্দ লাগা সবকিছু মিলে বিষন্ততা তৈরি হয়।এত কিছুর মিশ্রিত এই বিষন্ততা কাটিয়ে উঠতে মানুষের সময় বা যুগ লেগে যায়।তবে চিকিৎসা বিজ্ঞান বলে বিষন্ততা মানুষকে সবার থেকে আলাদা, একা করে দেয়।যা মানুষের মস্তিষ্কে খুব প্রবল ভাবে স্থায়ী হয়।

১৯৭০ এর দশক থেকে, মেডিটেশন এবং অন্যান্য মানসিক চাপ হ্রাস করার জন্য ইয়োগা কৌশলগুলো হতাশা এবং উদ্বেগের সম্ভাব্য চিকিৎসা হিসাবে ব্যবহার করা হছে। সাম্প্রতিক সময়ে এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠলে।একটি পরিসংখ্যানে উঠে আসে,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্ত বয়স্ক প্রায় ৫.৫% কমপক্ষে একবার যোগ ব্যায়াম করার চেষ্টা করেছিলেন এবং প্রায় ৪% আগের বছর যোগব্যায়াম অনুশীলন করেছিলেন।

সাধারন উদ্বেগ থেকে মুক্তি

ইয়োগা অনুশীলনের মাধ্যমে বিভিন্ন উদ্বেগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।ইয়োগা এর মিডিটেশন করার মাধ্যমে মন প্রশান্তি পায়।মনের মধ্যে বিভিন্ন চিন্তা থাকলে ইয়োগার মাধ্যমে তা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।চিকিৎসা বিজ্ঞানে প্রমানিত হয়েছে ইয়োগা করার মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ কমে, শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকে এবং হার্টের সমস্যা দূর হয়।

স্ট্রেস কমানোতে ইয়োগা

উটাহ ইউনিভার্সিটিতে করা একটি কৌতূহলদ্দীপক গবেষণা করার বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের প্রতিক্রিয়াগুলো দেখে স্ট্রেস প্রতিক্রিয়াতে ইয়োগার প্রভাব সম্পর্কে কিছুটা অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করেছিল।গবেষকরা লক্ষ করেছেন যে যে সমস্ত লোকের স্ট্রেসের প্রতিরোধ ব্যবস্থা খুব কম এবং তারা বিভিন্ন ধরনের রোগ বা উদ্বেগের প্রতিও বেশি সংবেদনশীল।

গবেষকদের বিষয়গুলো ছিল ১২ জন অভিজ্ঞ ইয়োগা অনুশীলনকারী, ১৪ জন ফাইব্রোমায়ালজিয়া (এমন একটি শর্ত যা অনেক গবেষক একটি স্ট্রেস-সম্পর্কিত অসুস্থতা হিসাবে বিবেচনা করেন যা সংবেদনশীলতা কতটা একটা মানুষের মাঝে তা নির্ধারন করে।) এবং ১৬ জন সুস্থ স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন।

যখন তিনটি গ্রুপ একত্রে  নিয়ে এই গবেষনা করা হয়,তখন দেখা যায় যারা সব সময় ইয়োগা অনুশীলন করে না।তাদের  শরীরে কোন প্রকার ব্যথার অনুভব হলে মস্তিষ্কের ক্ষেত্রগুলোতে সর্বাধিক ক্রিয়াকলাপ কাজ করে। বিপরীতে, যোগব্যায়ামকারীদের এম আর আইয়ের সময় সর্বাধিক ব্যথা দাওয়ার পরও সহনশীলতা কাজ করে মস্তিষ্কে।গবেষণায় প্রধানত ইয়োগার কৌশলগুলোর মূল্যকে বোঝানো হয়েছে যা কোনও ব্যক্তিকে তার স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ করতে এবং দুশ্চিন্তা কমাতে সহায়তা করতে পারে।

ইয়োগার উপকারিতা

যদিও বিভিন্ন ধরণের ইয়োগা অনুশীলন নিরাপদ,তবে কিছু কিছু সবার জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে। বিশেষত, বয়স্ক রোগীরা বা চলাফেরায় সমস্যাযুক্তরা চিকিৎসার বিকল্প হিসাবে যোগব্যায়াম করার আগে কোনও চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করার জন্য বলা হয়।

তবে হতাশা, উদ্বেগ বা স্ট্রেসের সাথে মোকাবিলা করা অনেক রোগীর ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো আরও ভালভাবে পরিচালনা করার জন্য যোগব্যায়াম একটি সহযোগী উপায় হতে পারে। প্রকৃতপক্ষে, যোগব্যায়ামের বৈজ্ঞানিক গবেষণাটি প্রমাণ করে যে মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্য কেবল ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত নয়, তবে মূলত সমতুল্য।প্রমাণটি বলছে যে যোগব্যায়াম অনুশীলন করা স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ, এবং এটি একটি উন্নত পদ্ধতি।

RedLive

Related post