মাত্র আট হাজার টাকায় মূলধনে লাখপতি বনে গেছেন-উদ্যোক্তা রোকসানা আক্তার

 মাত্র আট হাজার টাকায় মূলধনে লাখপতি বনে গেছেন-উদ্যোক্তা রোকসানা আক্তার

একজন উদ্যোক্তাকে উদ্যোক্তা হিসেবে দেখা উচিৎ নারী উদ্যোক্তা হিসেবে নয়। কিন্তু এই মুহর্তে আমাদের দেশে নারী তথা নারী উদ্যোক্তা ও নারী পেশাজীবিরা পুরুষদের মতো নির্বিঘ্নে কাজ করার সুযোগ পাননা। এটা সমাজের সমস্যা হোক, দেশের সমস্যা হোক এটা একটা সমস্যা। নারীরা এমন কিছু সমস্যা মোকাবিলা করেন যেটা একই সমাজের একজন পুরুষকে মোকাবেলা করতে হয়না।

একজন রোকসানা আক্তার।ছোট বেলা থেকেই একজনভালো স্টুডেন্ট ছিলেন,তাই স্বপ্ন ও ছিলো বড়। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোক প্রশাসন বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকত্তোর ডিগ্রি অর্জন করেন।বাবা মা র স্বপ্ন ছিল ভালো কিছু করে সবার মধ্যে সুনাম অর্জন করবেন এমনটাই প্রত্যাশা ছিল। তবে সংসার বাচ্চার জন্য তা আর হয়ে উঠেনি তেমন ভাল কিছু করার। তবে স্বপ্ন তো আর বিফলে দেওয়া যাবে না। নিজের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে গড়ে তুলেছেন অনলাইন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান Wish & Buy

কীভাবে আপনি একজন উদ্যোক্তা হিসেবে যাত্রা শুরু করেন?

সংসার বাচ্চার কথা চিন্তা করে কোন দিন চাকরির জন্য চেষ্টা করিনি।কিন্তু মনের মধ্যে নিজের আলাদা একটা পরিচিতির জন্য খারাপ লাগতো।আমি মারা গেলে কেউ আমাকে আমার পরিচয়ে চিনবে না,এটা আমি মেনে নিতে পারছিলাম না।সব সময় ভাবতাম একটা কিছু করবো কিন্তু কি করবো?দুই একজন কে বললাম চল কিছু একটা করি,কিন্তু কেউ তেমন পাত্তা দেয়নি।তারপর নিজেই চিন্তা করলাম সিলেটে যেহেতু অনেক দিন ছিলাম ,মণিপুরি শাড়ী নিয়ে কাজ করা যায়।সেই ভাবা সেই কাজ।৮০০০ টাকা কিছু শাড়ী ,ওড়না নিয়ে আসি।এভাবেই যাত্রা শুরু।

প্রথম প্রথম অনেক কষ্ট হয়েছে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে,কারণ আমি নতুন এবং আমার পেইজের মেম্বার ও অনেক কম ছিল।বিশ্বাস অর্জনের জন্য সারা বাংলাদেশে ক্যাশ অন ডেলিভারী দিতে শুরু করি,এবং ডেলিভারী চার্জ রাখি মাত্র ১০০ টাকা। প্রথম বার পেয়ে যখন ভালো রিভিউও দেয়া শুরু করে।এবং মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছিলাম। এর মধ্যে শুরু হলো করোনা।বাইরে বের হতে পারছিলাম না,কুরিয়ার কোম্পানি গুলো বন্ধ করে দিলো।আমার অনেক অর্ডার ক্যানসেল করতে হলো তখন। ওই সময় চিন্তা করছিলাম আর কি নিয়ে কাজ করা যায়। অনেক আগে থেকেই প্ল্যান ছিলো আমার বানানো কালোজাম নিয়ে কাজ করবো।কারণ যারাই খেয়েছে,সবাই অনেক বেশি প্রশংসা করেছে। আর আমি আমার কালোজাম টা ঘী দিয়ে ভাঁজি আর ঘী নিয়ে আসি পাবনা থেকে।আমার শশুর বাড়ি পাবনা হওয়াতে সব সময় একদম খাঁটি ঘী বানিয়ে নিয়ে আসি।জুনের ১১ তারিখ উই তে জয়েন করি,এবং আমার শশুর বাড়ির ঘী কে প্রচার করতে থাকি।আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো সারা পাই।

আপনি কি কি প্রোডাক্টস নিয়ে কাজ করেন?

আমি বর্তমানে পাবানার গাওয়া ঘী,ঘী এ ভাঁজা কালোজাম,বিভিন্ন ফুলের মধু এবং দেশীয় মণিপুরি শাড়ী নিয়ে কাজ করছি।আমার ঘী এর রেগুলার কাস্টমার আছেন ৩০-৩৫ জন যারা প্রতি মাসে আমার কাছ থেকে ঘী নিয়ে থাকেন। কালোজাম টা ঘী এ ভাঁজা বলে অনেক সফট হয়,আর হালকা মিষ্টি দিয়ে বানায় যার কারণে সবাই খুব পছন্দ করেন। আর সব চেয়ে বড় কথা আমি কালোজাম কখনো আগে থেকে বানিয়ে রাখিনা।অর্ডার আসার পর সাথে সাথে বানিয়ে গরম গরম ডেলিভারী দেই।আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো ভিভিও আমার কালোজামের।আর মধু আমার ল্যাব টেস্ট করানো।যাতে কারো কোন সন্দেহ না থাকে। আলহামদুলিল্লাহ সবাইকে একদম খাঁটি পণ্য দিতে পারছি বলে মানসিক ভাবে আমিও শান্তি পাই।

ছবিতে: Wish & Buy এর প্রোডাক্ট সমূহ।

আপনার উদ্যোগটি নিয়ে আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?

আমি বর্তমানে উদ্যোক্তা উন্নয়ন গ্রুপ এর মোডারেটর‌ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।দইওয়ালা গ্রুপের টপ কনট্রিবিউটর লিস্টে আছি অনেক দিন ধরেই।মাশাআল্লাহ আস্তে আস্তে সবার মধ্যে নিজের পরিচয় তৈরি করার চেষ্টা করছি।ভবিষ্যতে আমি একজন সফল উদ্যোক্তা এবং একজন সফল মানুষ হয়ে সবার কাছে পরিচিতি পেতে চাই। এবং পাশাপাশি আমার উদ্যোগের মাধ্যমে কিছু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে চাই।

সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন টাঙ্গাইল জেলার প্রতিনিধি রোয়েনা রহমান।

RedLive

Related post

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।