সংসার সামলিয়ে একা হাতেই দুটি বিজনেস পরিচালনা করছেন উদ্যোক্তা মালিহা মাসুদ লাবন্য

 সংসার সামলিয়ে একা হাতেই দুটি বিজনেস পরিচালনা করছেন উদ্যোক্তা মালিহা মাসুদ লাবন্য

আমাদের দেশে নারীরা এমন কিছু সমস্যা মোকাবিলা করেন যেটা একই সমাজের একজন পুরুষকে মোকাবিলা করতে হয় না । তবুও অনেক নারী আছেন যারা জীবন সংগ্রামে লড়াই করে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন।কাজ করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত যেন নিজেকে পরনির্ভরশীল হতে না হয়।ছোট থেকেই আত্বনির্ভরশীল হওয়ার ইচ্ছে নিয়ে বেড়ে উঠেন ।তেমনি একজন নারী উদ্যোক্তার গল্প এটি ।যিনি সংসার সামলিয়ে পরিচালনা করছেন অনলাইন ব্যবসায়।কথা বলছি উদ্যোক্তা মালিহা মাসুদ লাবন্য ও তার দুটি উদ্যোগ “Tiana’s corner” এবং “labonno’s kitchen” নিয়ে।

সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ঢাকা মিরপুরের প্রতিনিধি জান্নাতুল ফেরদৌস।

আপনার সম্পর্কে জানতে চাই?

আমি মালিহা মাসুদ লাবণ্য । দুইবোনের মধ্যে আমি বড়।আমার বাবা একজন চাকুরীজীবি এবং মা গৃহিনী। দিনাজপুরে আমার জন্ম এবং বড় হওয়া। ওখানেই আমার পড়াশোনা। এখন বসবাস ঢাকায়।

আপনার উদ্যোক্তা হয়ে উঠা কিভাবে?

ছাত্রজীবন থেকে ইচ্ছে ছিল নিজে কিছু করার। চাকুরি করার ইচ্ছে ছিল। ইচ্ছে ছিলো নিজের পায়ে দাড়াবো। তখন অনেক কিছু যেমন হাতের কাজের মধ্যে শিখেছি শেলাই, ব্লক, বাটিক,টাইডাই, এপ্লিক,সবকিছু সরকারী ভাবেই শেখা হয়েছিল।আমার মাথায় সব সময় একটাই কাজ করত কোন সময়ই আমি পরনির্ভরশীল না হই ।তাই পড়াশোনার পাশাপাশি যে কোন কিছু করার ইচ্ছে ছিল।আমি জীবনের প্রথম রোজগার করতে শিখেছি এইচ.এসসি থেকে। চাকুরি করার ইচ্ছে মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলি যখন বিয়ে হয় ,আমি মা হই। তখন মনে হয়েছিল নিজের ইচ্ছে পূরন করতে গিয়ে হয়ত আমার ছেলে (শাহরান) ও মেয়ে (তিয়ানা)– তাদের কথা ভেবে উদ্যোক্তা হবার চিন্তা মাথায় আসে। তারপর থেকেই পথ চলা শুরু করি উদ্যোক্তা জীবনের।

আপনি কি কি প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করছেন।

আমি মূলত মেয়েদের বিভিন্ন ধরনের জিনিস, মেয়েদের পোশাক, শাড়ি, বিছানার চাদর, গহনা,ব্যাগ ইত্যাদি নিয়ে কাজ করছি। তাছাড়া আমার রান্না করতেও ভালো লাগে । আমি অন্যান্য কাজের পাশাপাশি রান্না নিয়েও কাজ করছি।পায়েস,পুডিং, ফ্রোজেন রুটি, পরোটা, খেজুরের গুড়ের পায়েস, দুধ সেমাই, জর্দা আর আছে দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী কাটারীভোগ চাল, কাটারী ভোগ চিকন চিড়া,মুগ ডালের পাপড়।

উদ্যোক্তা হতে গিয়ে কোন বাধার সৃষ্টি হয়েছেন কি।আর সবচেয়ে বড় সাপোর্ট কার থেকে পেয়েছেন ?

উদ্যোক্তা হতে গিয়ে তেমন বড় বাধার সৃষ্টি হয়নি। আর সব কিছু সামলিয়ে সংসার, দুই বাচ্চা সামলিয়ে তারপর কিছু করা অনেক কস্ট হয়ে যায়। কিন্তু বাধার সৃষ্টি হয়না।আমি মনে করি ইচ্ছা আর চেষ্টা থাকলে সব কিছু করা সম্ভব ইনশাআল্লাহ।

আর আমার সবচেয়ে বড় সাপোর্ট আমার হাসবেন্ড, সাপোর্ট হিসেবে প্রথম থেকেই পাশে ছিল এবং আছে। ওর জন্যই আমার উদ্যোক্তা হিসেবে পথ চলা সহজ হয়েছে। ও ই আমার সবচেয়ে বড় সাপোর্ট

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিজের ব্যবসাকে বড় করা, একটা বুটিক হাউজ দেওয়া।হাতের কাজ নিয়ে সামনে আরও কাজ করার ইচ্ছা আছে ইনশাআল্লাহ।

RedLive

Related post

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।