সুই-সুতোর নকশী শিল্প নিয়েই সফল উদ্যোক্তা হেনা আক্তার

 সুই-সুতোর নকশী শিল্প নিয়েই সফল উদ্যোক্তা হেনা আক্তার

নকশীকাঁথা আমাদের দেশের একটি ঐতিহ্যপূর্ণ সেলাই শিল্প। এটি বাঙালি সংস্কৃতির একটি অংশ। ভারতের কিছু এলাকা ও বাংলাদেশে বাঙালি ইতিহাস ঐতিহ্যের নকশীকাঁথা সেলাইয়ের প্রচলন ও প্রবনতা দেখা যায়। মনের মাধুরী মিশিয়ে লাল, নীল, হলুদ প্রভৃতি রংবেরঙের সুতায় কাপড়ের ওপর সুঁইয়ের আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলা হয় নানা ধরনের আল্পনা, ফুল, পাখি ও লতাপাতার ছবি। চিত্তাকর্ষক এসব লাবণ্যময় বাহারী চিত্র দেখে চেনা যায় নকশীকাঁথা। বাঙালির জন্য এটি খুব গৌরবের। বছরের বিভিন্ন সময় বাঙালি নারীদের নকশীকাঁথা সেলাই করতে দেখা যায়। গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে যেন নকশীকাঁথা সেলাইয়ের উৎসব বয়ে যায়। ঈদের দিনেও নকশী কাঁথা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে গাঁয়ের দুলালী মেয়ে। এভাবেই চিরায়ত বাংলার ঐতিহ্য নকশী কাঁথা যুগ যুগ ধরে প্রাণবন্ত হয়ে আছে। শিশুকাল থেকেই গ্রামবাংলার মেয়েদের নকশীকাঁথায় হাতেখড়ি হয়। সুঁই-সুতার সঙ্গে গড়ে ওঠে তাদের গভীর মিতালী। এই সুই-সুতা আর নকশীকাঁথা কে পুজি করেই আজ স্বনির্ভর নারী উদ্যোক্তা কুষ্টিয়ার হেনা আক্তার।যিনি কিনা ২০০ জন এর ও বেশি করেছেন কর্মসংস্থান করেছেন তার উদ্যোগ “Dola Handicrafts “ এর মাধ্যমে।আজ জানব তার উদ্যোক্তা হেনা আক্তার ও তার উদ্যোগ “Dola Handicrafts “ নিয়ে।

সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ঢাকা মিরপুরের প্রতিনিধি জান্নাতুল ফেরদৌস

আপনার সম্পর্কে জানতে চাই?

আমি মোছাঃ হেনা আক্তার। আমার পিতা মোজাহার আলী জোয়ার্দ্দার। আমরা ছয় ভাই বোন। আমি বোনদের মধ্যে তৃতীয়। আমার জন্ম, বেড়ে ওঠা ও পড়াশোনা কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে। পড়াশোনা করেছি কুমারখালী ডিগ্রি কলেজে।

উদ্যোক্তা হয়ে উঠার আগে আপনি কি কাজ করতেন?

উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার আগে আমি কোনো কর্মসংস্থানের সাথে যুক্ত ছিলাম না। “Dola Handicrafts ” এর মাধ্যমেই আমার কর্মসংস্থান শুরু।

আপনার উদ্যোক্তা হওয়ার শুরু টা কিভাবে?

২০০৭ সালে আমি একজন সাধারণ গৃহিণী থেকে উদ্যোক্তা হয়ে ওঠি। ছোটবেলা থেকেই সেলাই ফোরাই নিয়ে আগ্রহ ও অভিজ্ঞতা ছিল। তাই উদ্যোক্তা হওয়ার আগে সুই সুতোর নকশী শিল্পকেই বেছে নিয়েছি। কিছু কাছের মানুষের অনুপ্রেরণা পেয়ে শখের বসে কাজ শুরু করেছিলাম। শুরুর দিকে মাত্র ৭ জন মেয়ে কর্মি নিয়ে কাজ শুরু ও পরবর্তিতে ২২০ জন মেয়ে কর্মী যুক্ত ছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে ব্যাবসার অবনতির কারণে বেশ কিছু কর্মী কমে গিয়েছে। প্রথমে শখের বসে শুরু করলেও এখন এটিই আমার স্বনির্ভরশীল হওয়ার ও প্রয়োজন পূরণের একমাত্র উপায় হয়ে গিয়েছে। এভাবেই আমার উদ্যোক্তা হয়ে ওঠা।

আপনি কি কি প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করছেন?

আমার রেগুলার প্রোডাক্টের মধ্যে রয়েছে নকশিকাঁথা, নকশিচাঁদর, কুশন কভার, ওয়্যালম্যাট, বেবীকাথাঁ, টেবিলক্লথ, জায়নামাজ।

করোনায় ব্যাবসায় কোনো প্রভাব পড়েছে কিনা আগের থেকে?

প্রথমদিকে শাড়ি, থ্রিপিস ও পাঞ্জাবী তৈরি করলেও এখন করোনার দেশের খারাপ পরিস্থিতিতে এগুলো কম সেল হওয়ার কারণে শুধু অর্ডার নিয়ে তৈরি করে দেওয়া হয়।

পন্যের মান ভাল হওয়ার জন্য কি করে থাকেন?

প্রোডাক্টের মান সর্বত্তোম হওয়ার জন্য বেষ্ট কোয়ালিটির ফেব্রিক ও রেশমি সুতা ব্যবহার করি।

উদ্যোক্তা হতে গিয়ে কোনো বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে কিনা এবং সবচেয়ে বেশি কার সাপোর্ট পেয়েছেন?

উদ্যোক্তা হতে গিয়ে আশেপাশের নানান বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। পরবর্তীতে সেগুলো কাটিয়ে উঠতে পেরেছি। উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনে আমার ছোট ভাই ও আমার মেয়ের সাপোর্ট পেয়েছি বেশি। আমার ছোট ভাই শুরুর দিকে ডিজাইন সংগ্রহ করা থেকে শুরু করে কোন ফেব্রিক ও সুতার মান ভালো হবে সব কিছুতে পরামর্শ দিয়ে পাশে থেকেছে। অনলাইন পেজ খোলা ও তাতে প্রোডাক্টের ছবি তুলে আপলোড দেওয়া সব কিছু আমার মেয়েই করে থাকে। এভাবেই তাদের থেকে আমি বরাবর সাপোর্ট পেয়েছি।

আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

ভবিষ্যতে ব্যাবসাটাকে আরো বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা আছে ও একটি শোরুম দেওয়ার ইচ্ছা আছে। পাশাপাশি অসহায় ও কর্মহীন নারীদের কর্মসংস্থানের ব্যাবস্থা করতে চাই। কিন্তু বর্তমান দেশের পরিস্থিতিতে কতোটা সফল হতে পারবো তা বলা বাহুল্য।

RedLive

Related post