স্টাডি হ্যাকসঃ পড়াশোনা মনে রাখুন সহজে

 স্টাডি হ্যাকসঃ পড়াশোনা মনে রাখুন সহজে

পড়ালেখা করতে গিয়ে সবারই একটি সাধারণ সমস্যা দেখা যায়। সেটি হল- আমার কিছু মনে থাকে না, কি করবো?

যদিও মহামারীর এই সময়ে সবারই পড়ালেখা লাটে উঠেছে, কিন্তু তবুও মনে রাখার কিছু টিপস শেয়ার করা যেতেই পারে। এখন না হোক পরে হয়তো আপনার কাজে লাগবে। 

আসুন জেনে নেই কোনো বিষয় মনে রাখার কিছু  কৌশল সম্পর্কে—

পড়াশোনার আগে হালকা ব্যায়ামঃ

পড়তে বসার আগে নিজের মনকে সজীব ও সতেজ রাখার চেষ্টা করা উচিত। এতে করে মনোযোগ ঠিক জায়গায় নিবদ্ধ থাকে এবং শিখনে আগ্রহ বাড়ে। 

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে পড়াশোনার আগে হালকা ব্যায়াম করে নেওয়া একজন ব্যক্তিকে একটি বিষয় সহজে আত্মস্থ করতে সহায়তা করে। ব্যায়াম হতে পারে যেকোনো ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ ধরণের কিছু। হতে পারে দশ মিনিটের জন্য বাইরে হেঁটে আসা, সিঁড়ি দিয়ে দুই তলা থেকে একতলায় যাওয়া, দড়ি লাফ দেওয়া কিংবা দুই মিনিটের জন্য বাইরে থেকে স্বল্প দূরত্বে দৌড়ে আসা। 

Image Source : Pixabay

পড়াশোনার স্থানঃ

আপনার পড়াশোনার স্থানটি হবে এমন যেখানে মনোযোগ সরে যাওয়ার মতো কোন কিছু থাকবে না। অর্থাৎ টিভি, মোবাইল, ট্যাব, কম্পিউটার অথবা গানের শব্দ- কোন কিছুই সেখানে কোনো সমস্যা সৃষ্টি করতে পারবে না এমন।

এতে করে ওই স্থানে আপনি মনোযোগ সহকারে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে পারবেন। যে জিনিসটি শিখতে চাইছেন সেটি অপেক্ষাকৃত সহজেই আত্মস্থ করতে পারবেন। 

শব্দ থেকে ছবিতে রুপান্তরঃ

শব্দ সংক্রান্ত কোন কিছু (যেমন- নতুন শব্দ, শব্দার্থ, সমার্থক শব্দ বা বিপরীত শব্দ) শিখতে গিয়ে আমাদের প্রায়ই বিপদে পড়তে হয়। এসব ব্যাপারে সবারই সাধারণ সমস্যা মনে না রাখতে পারা।

সহজেই শব্দ মনে রাখার জন্য আপনি শব্দটিকে মনের মধ্যে ছবি আকারে মনে রাখতে পারেন। এতে করে যখনই ওই নির্দিষ্ট শব্দের ব্যবহার আসবে তখনই আপনার মনের মধ্যে সেই বস্তুটির ছবিটি এঁকে দিতে শুরু করবে।

Image Source : Pixabay

বারবার স্মরণ করাঃ

আমাদের একটি সাধারণ সমস্যা হলো আমরা যেকোনো কিছু একবার পড়েই চিরতরে মুখস্ত করে ফেলতে বা আত্মস্থ করে ফেলতে চেষ্টা করি। কিন্তু এটি সঠিক প্রক্রিয়া নয়।

একটি বিষয়কে যখনই আপনি একবার শিখে সেটি পরে আবার স্মরণ করতে চেষ্টা করবেন তখন সম্পূর্ণ অংশটি স্মরণ করতে পারবেন। শিখনকে দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে যে বিষয়টি আপনি শিখছেন সেটি একবার নয়, কিছু সময় বিরতি দিয়ে দিয়ে বারবার পড়ুন, স্মরণ করুন। এতে করে ভুলে যাবার আশঙ্কা কমে আসবে। মনে থাকবে আরো বেশি।

বাস্তবতার সাথে সম্পৃক্তকরণঃ

আপনি যে বিষয়টি শিখতে চান না কেন সেটিকে যদি বাস্তবতার সাথে সম্পৃক্ত করতে পারেন তাহলে সেটি ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা অনেকখানি কমে আসে। আপনার দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিস যেমন আপনার টেবিল, আপনার বিছানা, আপনার বুক সেলফ অথবা টিভিতে দেখা বিশেষ কোনো অনুষ্ঠানের সাথে যে জিনিসটা শিখছেন তার সম্পৃক্ততা আনার চেষ্টা করুন। 

আর বাস্তবেও সেটির প্রয়োগ ঘটান। ধরা যাক, আপনি ইংরেজী ভাষায় আরেকটু দক্ষতা অর্জনের শেখার চেষ্টা করছেন। সেক্ষেত্রে চেষ্টা করুন দৈনন্দিন কাজকর্মে কথাবার্তায় ইংরেজীর ব্যবহার করার। বন্ধুদের সাথে কথাবার্তায় ইংরেজীতে কথা বলা, বাংলার পরিবর্তে ফেসবুকে দুই লাইন ইংরেজীতে লিখে পোস্ট দেওয়া, ক্লাস নোট তোলার সময় ইংরেজীতে তোলা- ইত্যাদি হতে পারে এর উদাহরণ। 

নেমোনিকের ব্যবহারঃ

নেমোনিক হলো এক ধরনের শিখন কৌশল যার মাধ্যমে সহজেই কোন বিষয়কে পুনরায় স্মরণ করা যায়। নেমোনিক হতে পারে কোন নির্দিষ্ট বর্ণ, প্যাটার্ন, চিন্তাভাবনা অথবা ঘটনা- যা আপনাকে একটি বিষয় স্মরণ করিয়ে দিতে সহায়তা করে। 

গণিত করবার সময়ে আমাদের ছোটবেলায় বহুল ব্যবহৃত একটি নেমোনিক ছিলো ‘কিলাইয়া হাকাইয়া ডাকাত মারিলে দেশে শান্তি মিলবে’, যার মাধ্যমে আমরা কিলোমিটার থেকে মিলিমিটার পর্যন্ত সূত্রসমূহ মনে রাখার চেষ্টা করতাম। এমন পদ্ধতি অবলম্বন করে অনেক কঠিন ও বড় বিষয়ও মনে রাখা সম্ভব।

Image Source : Pixabay

ছন্দের ব্যবহারঃ 

ছন্দের মাধ্যমে যেকোনো কিছু আত্মস্থ করা যায়। বেশিরভাগ সময়ই বাচ্চাকাচ্চাদের ক্ষেত্রে এ কৌশলটির প্রয়োগ ঘটে। গান ও ছন্দের মাধ্যমে তাদেরকে ছড়া ও কবিতা শেখানো হয়। এছাড়াও ইংরেজি বর্ণমালা শেখানোর ক্ষেত্রেও ছন্দে ছন্দে মিলিয়ে গানের মাধ্যমে বাচ্চাদের শেখানো হয়। 

এসকল বিষয় ছাড়াও আরো অনেক বিষয়ই শিখনে মনোযোগ নিবদ্ধ রাখতে এবং শিখন দীর্ঘস্থায়ী করতে সহায়তা করে। যথাযথ খাদ্য গ্রহণ, শারীরিক সুস্থতা, পরিমিত পরিমাণ ঘুম, মানসিকভাবে ভালো থাকা, বারবার পড়া এবং বিষয়টিকে বারবার চর্চা করাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সবকিছু মিলিয়ে উপরোক্ত বিষয়গুলো মেনে চলতে পারলে খুব সহজেই দেখবেন যেকোনো বিষয়ই আপনি আগের চেয়ে আরো বেশি ভালো মনে রাখতে পারছেন।

এমন আরো ভালো টিপস এন্ড ট্রিকস পেতে রেড লাইভের সাথেই থাকুন।

লিখেছেনঃ শাহনেওয়াজ আহমদ 

RedLive

Related post