স্বপ্নের ফেরিওয়লী সানজিদা আক্তার বিথী

 স্বপ্নের ফেরিওয়লী সানজিদা আক্তার বিথী

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ১২ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত। বর্তমানে এ অঞ্চলটি মুন্সীগঞ্জ জেলার অন্তর্গত।বিক্রমপুর বাংলার একটি ঐতিহাসিক এলাকা। বৈদিক যুগ থেকে ভাওয়াল ও সোনারগাঁও রাজধানী হিসেবে আবির্ভূত হবার আগে পর্যন্ত এটিই ছিল বাংলার প্রাচীনতম রাজধানী। বিক্রমপুর ছিল রাজা বিক্রমাদিত্যের রাজধানী। এই এলাকায় বাংলার বহু কীর্তিমান ব্যক্তির জন্ম হয়েছে। এখানকার কৃতী সন্তানের মধ্যে রয়েছেন অতীশ দীপঙ্কর, জগদীশ চন্দ্র বসু, ব্রজেন দাস, সত্যেন সেন প্রমুখ এর মতো জন্ম এই বিক্রমপুরের। এই বাংলার প্রাচীনতম রাজধানীর মেয়ে একজন সাহসী নারী উদ্যোক্তা সানজিদা আক্তার বিথী

কিন্তু বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করছেন। পরিবারে তিন ভাই বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট।সানজিদা আক্তার বিথী সব সময় স্বপ্ন নিজের একটা ছোট কারখানা হবে যেখানে কাজ করবে অসংখ্য নারী।সে মনোভাব থেকে নিজেকে একজন উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলেছেন। গড়ে তুলেছেন অনলাইন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ASB গড়ে তুলেছেন।

সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন টাঙ্গাইল জেলার প্রতিনিধি রোয়েনা রহমান।

কিভাবে আপনার উদ্যোক্তা পথ যাত্রা শুরু?

আমি কখনো ভাবিনি যে নিজে কিছু করব বা আমাকে দিয়ে কিছু হবে আমিও স্বপ্ন দেখতে পারি নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারি স্বাবলম্বী হতে পারি।।। আসলে সময়ের সাথে মানুষ নিজেকে অনেক পরিবর্তন করে ফেলে। আমি ও নিজেকে পরিবর্তন করেছি কিছু প্রিয় মানুষের অনুপ্রেরণায় নিজেকে একজন উদ্যোক্তা হিসেবে দাঁড় করাতে পেরেছি। ️

উই এর ভূমিকা এখানে অনেক বেশি ।উই এর মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের জীবনের সাফল্য অর্জন করার গল্প গুলো অনেক ছুঁয়ে যায় আমাকে। নিজের উপর আত্নবিশ্বাস বাড়ে আমি কিছু করতে পারব আর এই ভাবে আমার কাজ করা শুরু হয়। এখনো অনেক দূরে যেতে হবে মাত্র হাঁটি হাঁটি পা পা শুরু করেছি ইনশাআল্লাহ আল্লাহর রহমতে একদিন নিজের লক্ষ্যে পৌঁছাব সবার দোয়ায়।

আপনি কি প্রডাক্ট নিয়ে কাজ করেন?

প্রথম থেকেই চিন্তা করছিলাম কি নিয়ে কাজ করব যেহেতু আমি কাজ শুরু করেছিলাম টাপার‌ওয়ার ভার্জিন পালাস্টি নিয়ে যা আমাদের প্রতিদিনের খাবার সংগ্রহের জন্য এবং খাবারের মান ভালো রাখে । তাই সবার জন্য ভালো হবে এমন দেশি খাঁটি পণ্য নিয়ে কাজ করার কথা ভাবলাম যা ভেজালমুক্ত পণ্য হবে ।নিজেই সংগ্রহ করা যায় এমন কিছু পণ্য নিয়ে কাজ শুরু করি।তাই সবার কথা চিন্তা করে মরিচ, হলুদ, জিরা, ধনিয়া গুঁড়া, খাঁটি খাওয় ঘী, সরিষার তেল, নারকেল তেল, কালোজিরা তেল , খাঁটি মধু, ঘরের তৈরি মাখন এসব নিয়ে আমার উদ্যোক্তা পথ চলা শুরু করি।

উদ্যোক্তা হতে গিয়ে কোন বাঁধার সম্মুখীন হয়েছেন কিনা এবং সবচেয়ে কার সাপোর্ট পেয়েছেন বেশি?

আমি যেহেতু খাঁটি পণ্য নিয়ে কাজ শুরু করব তাই খাঁটি পণ্য কোথায় পাব ও কিভাবে কি করব এগুলো সব গুছিয়ে আনতে অনেক সময় লেগেছে এখনো অনেক কিছু শেখা বাকি আমাদের পথ চলাটা অনেক দূরের তাই সকল বাঁধা কে জয় করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে ‌। আমার কাজে কখনো কেউ বাঁধা দেয় নি বরং সবাই সবসময় অনেক অনুপ্রেরণা দিয়েছে সবাই সাহস দিয়েছে তুমি এগিয়ে যাও আমরা পাশে আছি। আমার বড় বোন সবসময় বাবা মার ছায়ার মত পাশে থেকেছে এখন আমার দুই মেয়ে কে আপুর কাছে রেখে আমি কাজ করি ডেলেভারি দেয়ার থাকলে কোন অনুষ্ঠানে যাবার হলে সবসময় আপু আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন।তাই আমার বড় বোনের কাছে আমি অনেক কৃতজ্ঞ।

আমার স্বামী আমাকে অনেক উৎসাহ দেয় কাজ করার জন্য । আমি কোন সমস্যা পরলে কোন কিছু না বুঝলে সবসময় আমাকে সাপোর্ট দিয়েছে সামনে ও দিবে ইনশাআল্লাহ । সবসময় বলে যেটা করলে ভালো লাগে তুমি সেটাই করো আমি আছি আল্লাহর রহমতে আমার কাজের জন্য সবাই শশুরবাড়ি এবং আমার ভাই বোন সবাই উৎসাহ দেয় সাপোর্ট দেয় তাই সবাইকে অনেক ধন্যবাদ।

আপনার উদ্যোগটি নিয়ে আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?

এখনো হাঁটি হাঁটি পা পা করে আমার অনেক দূরে চলতে হবে।এই পথ চলা যেন আমাকে আমার স্বপ্নের লক্ষ্যে পৌঁছায় । আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আমার নিজের একটা কারখান হবে যেখানে অনেক নারী কাজ করবে আমার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমার সাথে কাজ করবে। ছোট ছোট স্বপ্ন গুলো যেন একদিন বাস্তবে রুপ পায় এই আশা এই ছোট জীবনে মানুষের জন্য কিছু করতে পারি মানুষের বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি এই পরিকল্পনা আমার।

RedLive

Related post

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।